‘আমার মাথায় বন্দুক ধরতে পারেন, মরতে রাজি। কিন্তু দুর্নীতি দেখলে চুপ থাকবেনা আদালত’ বললেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

0 208

- Advertisement -

ওয়েব নিউজ, ১৪এপ্রিল:- তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নাম অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কোনও উকিল তার মক্কেল কে জিজ্ঞেস করলেই তিনি বলেন ‘বিচারপতি ক বা বিচারপতি খ নয় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের আদালতে গেলেই সঠিক রায় পাবো’। এবার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলো কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে একের পর এক মামলার তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার(CBI) হাতে দিয়েছেন যা নিয়ে আগেই বিরোধ প্রকাশ করেছিলো আইনজীবীদের একাংশ মঙ্গলবার দিন আইনজীবীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয় আদালত চত্বরেই যা বুধবার চরম আকার ধারণ করে। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার ১৭নম্বর আদালত কক্ষে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রবেশের পরেই শুরু হয় বাগবিতণ্ডা থেকে গণ্ডগোলে জড়ান তৃণমূলপন্থী আইনজীবী ও বিজেপিপন্থী আইনজীবীরা। এরপর যা পৌছেযায় হাতাহাতি পর্যন্ত এরমধ‍্যেই এজলাসে ঢুকতে গেলে ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ বোধ করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এই পরিস্থিতিতে সকলকে শান্ত থাকার আবেদন করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর আইনজীবীরা এজলাস কক্ষের বাইরে বারান্দায় ধর্নায় বসে পড়েন, তখন বিচারপতি ধর্নারত আইনজীবীদের থেকে সরাসরি জানতে চান “আমার আদালত নিয়ে আপনাদের সমস্যা কোথায়?”

- Advertisement -

জবাবে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয় ‘আদালত নিয়ে তাদের কোনও সমস‍্যা নেই‌। বার অ্যাসোসিয়েশনের সকলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোর্টের কাজ হবে না,আমরা সেটার পক্ষে’। যা শুনে বিজেপিপন্থী আইনজীবীরা প্রতি দাবী করে ‘এটা বারের সকলের সিদ্ধান্ত নয় এই সিদ্ধান্ত ওনাদের’,  এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন ‘সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশানুযায়ী এইভাবে কোর্টের কাজকে বাধা দেওয়া যাবে না। কারও কোন অভিযোগ থাকলে সুপ্রিমকোর্টে বলতে পারেন’।

এরপর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন “যারা কাজ করবেন না, তারা কোর্টরুম খালি করে দিন। এজলাসে থাকার অধিকার সবার আছে কিন্তু বাধা দিলে চলবে না। তিনি আরও বলেন আপনার হয়তো রাজনৈতিক বাধ‍্যবাধকতা থাকতে পারে কিন্তু দুর্নীতি দেখলে আদালত চুপ থাকবে না। আমি খুব দুঃখিত। যে দুর্নীতি করবে সে যে রাজনৈতিক দলেরই হোক ছেড়ে দেওয়া যাবেনা। আমার মাথায় বন্দুক ধরতে পারেন, মরতে রাজি। কিন্তু দুর্নীতি দেখলে চুপ থাকবে না আদালত। এতো শত্রুতা কিসের! ভেবে দেখুনতো আপনারা..কেউ থাকবেনা, কেউ কাউকে মনে রাখবেনা। মৃত্যুর পর কেউ কাউকে মনে রাখে? যারা দুর্নীতি করছে তাদের সাথে শুধু শত্রুতাই থাকতে পারে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয় সারা দেশে দুর্নীতিতে ভরে গেছে। কোনও আমলেই এই দুর্নীতির শেষ নেই কিন্তু লড়াইতো চালাতে হবে এর বিরুদ্ধে”।

এজলাস বয়কট নিয়ে ও তার বিভিন্ন রায়দান নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.