পকেটে ছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা, এই দুর্দান্ত আইডিয়ার জেরে আজ ২৯ হাজার কোটি টাকার কোম্পানির মালিক। জেনে নিন সেই অসাধারণ কাহিনী

১৯৬৬ সালে এলআইসি তে বীমা এজেন্টের চাকরির সময় লক্ষ্মণ দাস মিত্তল ব্যবসা করার কথা ভেবেছিলেন, তখন পকেটে ছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা। আর সেই সময় লক্ষ্মণ দাস মিত্তল কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু করেন।

0 85

- Advertisement -

ওয়েব ডেস্ক, ১০ মে :- একটা সময় ছিল যখন সোনালিকা ট্র্যাক্টরস এর চেয়ারম্যান লক্ষ্মণ দাস মিত্তল এলআইসি-তে বীমা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। কঠোর পরিশ্রম করার পরে, তিনি একজন ফিল্ড অফিসার হন এবং এর সাথে লক্ষ্মণ দাস মিত্তল বিভিন্ন রাজ্যে চাকরি পান। ১৯৬৬ সালে চাকরির সময় লক্ষ্মণ দাস মিত্তল ব্যবসা করার কথা ভেবেছিলেন, তখন তার পকেটে ছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা। আর সেই সময় লক্ষ্মণ দাস মিত্তল কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু করেন।

- Advertisement -

তার পাশাপাশি তিনি চাকরিও করতেন। এরপর ১৯৯০ সালে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে, তিনি ট্রাক্টর উৎপাদন শুরু করেন। এছাড়াও তিনি বহু আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এবং এর সাথে লক্ষ্মণ দাস মিত্তল সম্মানজনক শিল্পরত্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

লক্ষ্মণ দাস মিত্তলের পরিবার :-
তার ৩ ছেলে রয়েছে, যার মধ্যে বড় ছেলে অমৃত সাগর কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে লক্ষ্মণ দাস মিত্তালের তৃতীয় ছেলে দীপক মিত্তাল কোম্পানির এমডি। আর লক্ষ্মণ দাস মিত্তালের দ্বিতীয় ছেলে আমেরিকার নিউইয়র্কে ডাক্তার। এবং লক্ষ্মণ দাস মিত্তালের দুই নাতি সুশান্ত এবং রমন। নকশা, বিনিয়োগকারী সম্পর্ক, বিপণন, পণ্য এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা ভালভাবে পরিচালনা করেন। লক্ষ্মণ দাস মিত্তলের আরেক নাতি রাহুল পরিবারের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা পরিচালনা করেন। আপনাদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে রাখি, লক্ষ্মণ দাস মিত্তলের মেয়ে ঊষা সাংওয়ান এলআইসির এমডি ছিলেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো আগে লক্ষ্মণ দাস মিত্তল এই কোম্পানিতে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।

তিনি ১৯৬৯ সালে ‘সোনালিকা গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিশ্বের প্রায় ১২০ টি দেশে ট্রাক্টর রপ্তানি করে। সেই সময় লক্ষ্মণ দাস মিত্তল কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য এই কোম্পানি চালু করেছিলেন। কিন্তু তারপর ১৯৯৫ সালে, লক্ষ্মণ দাস মিত্তল ট্রাক্টর প্রস্তুত করা শুরু করেন। আজকের সময়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাক্টর লিমিটেড ভারতে তৃতীয় বৃহত্তম ট্রাক্টর প্রস্তুতকারক সংস্থা হয়ে উঠেছে।

লক্ষ্মণ দাস মিত্তলের ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাক্টর লিমিটেডের উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে বিশাল ব্যবসা রয়েছে। সোনালিকা ট্রাক্টরগুলি হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং পশ্চিম উত্তর প্রদেশের গ্রামেও কৃষকদের দ্বারা খুব পছন্দ করা হয়। সোনালিকা বছরে ৩ লাখের বেশি ট্রাক্টর তৈরি করে। এমনকি লক্ষ্মণ দাস মিত্তল আজ ৯০ বছর বয়সেও তার কোম্পানি পরিচালনা করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.