চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীকে ‘ মল ‘ পরিষ্কারের কাজে নিয়োগ তৃণমূল নেতার, অভিযোগ দায়ের থানায়

0 109

- Advertisement -

ওয়েব নিউজ, ৩০ এপ্রিল: উত্তরপ্রদেশ হরিয়ানার প্রতিবিম্ব দেখা গেল এবার খোদ বাংলায়। চাকরি দেওয়ার নাম করে এক আদিবাসী তরুণীকে পরিচারিকার কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী তথা প্রাক্তন আই পি এস হুমায়ূন কবীরের বিরুদ্ধে।

- Advertisement -

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা সবিতা লায়েকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের মেয়ে সবিতা। গত বছর বিধানসভা ভোটের পরই কারিগরি শিক্ষা দপ্তরে সবিতার জন্য একটি অস্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করেন হুমায়ূন কবীর। কিন্তু সবিতার অভিযোগ, এই চাকরির নামে তাকে হুমায়ূন কবীরের বাড়িতে করতে হত পরিচারিকার কাজ।

সবিতা জানান, ঘর ঝাঁট মোছা, পোষ্যদের মল পরিষ্কার সবই করানো হতো তাকে দিয়ে। সামান্য কাজে ভুল হলে জুটত অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ। অস্থায়ী কাজের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় নি কোনো নিয়োগ পত্র। অথচ তাঁর বেতন কারিগরি দপ্তরের অ্যাকাউন্ট থেকেই হতো। এরপর এক সময় হুমায়ূন কবীর ও তাঁর স্ত্রী সবিতাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেন। এর কিছু দিন পর থেকে ২০২১ সালের ১০ অগাস্ট কারিগরি দপ্তর থেকে চিঠি আসে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে এসেছেন।

এরপর সবিতা জানায়, ‘ আমি ভেবেছিলাম আমাকে পুনরায় ডাকা হবে, কিন্তু বহুদিন অপেক্ষা সত্ত্বেও কিছুই খবর আসে নি। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের কাজে একাধিক বার চিঠি পাঠিয়েও কোনও সুরাহা মেলে নি। দাদু বিধানসভা ভোটে অনেক খেটেছিলেন। ভোটে জেতার পর দাদুর অনুরোধেই আমার চাকরিটা হয়েছিল।’

যদিও এই প্রসঙ্গে হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন, মেয়েটিকে পরিচারিকার কাজের জন্য আনা হয় নি, ভিজিটরদের দেখাশোনা ও চিঠিপত্র নথিভুক্তি করার জন্য আনা হয়েছিল। আইন মেনেই তাকে নিয়োগ করা হয়েছে। নন টেকনিক্যাল কন্ত্রাক্টচুয়াল ওয়ার্কার হিসেবে আমার বাড়ির অফিসে নিয়োগ করা হয়েছিল। ১ বছর সম্পূর্ণ হলে নিয়োগ পত্রও দেওয়া হতো।

স্বভাবতই, এই ঘটনায় রীতিমত শোরগোল পড়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.