স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন তৃণমূল নেতার, চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে

0 130

- Advertisement -

মালদা,  ৯ এপ্রিল :  দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে জেলা প্রশাসন এবং নবান্নে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মালদার রতুয়া এলাকার তৃণমূলের বুথ কমিটির এক নেতা ইমরান আলি (২৯)। প্রতিবন্ধী ওই তৃণমূল নেতা ইমরান আলির স্বেচ্ছামৃত্যুর  বিষয়টি জানাজানি হতেই মালদা জেলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে । 

- Advertisement -

অসহায় ওই তৃণমূল নেতার বক্তব্য, আমার কাছে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রয়েছে । কিন্তু কোনো সুবিধা পাই নি। রয়েছে দুয়ারে রেশন প্রকল্পের কার্ডও। তবুও বাড়িতে এসে পৌঁছায় না সরকারি রেশনের খাদ্য সামগ্রী । কোনরকমে স্ত্রী সংসার টানছেন। আর পাড়া-প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে সাহায্য করছেন। এরকম অবস্থায় যন্ত্রণা নিয়ে আমার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় । তাই এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জেলা প্রশাসন এবং নবান্নে আমি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করছি।

এদিকে তৃণমূলের বুথ কমিটির এক নেতার এরকম স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনের কথা প্রকাশ্যে আসতেই দলের অন্দরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বক। যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী জানিয়েছেন, বিষয়টি জানা ছিল না। ইমরান আলির সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তার পাশে দাঁড়াবে দল। সমস্ত রকম ভাবে তাকে সাহায্য করা হবে।

উল্লেখ্য , চাঁচল মহাকুমার রতুয়া ২ ব্লকের আড়াইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইমরান আলি (২৯)। প্রতিবন্ধী থাকার কারণে ঠিকমতো তিনি চলাচল করতে পারেন না। শরীরের ৮০ শতাংশ বিশেষভাবে অক্ষম। এমনকি তার শংসাপত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরেও মেলেনি কোন সরকারি সাহায্য।  ইমরান আলির বাবা হেলু শেখ এবং মা মলিনা বিবি দু’বছর আগে করোণায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারে দেখা শোনার মতো রয়েছে একমাত্র স্ত্রী। বর্তমান পরিস্থিতিতে দিনের সিংহ ভাগ সময়ই বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় ইমরান আলিকে। পিরপুর এলাকার তৃণমূল সভাপতির পদ সামলিয়েছেন ইমরান আলি। কিন্তু এখন তার অসহায় তার কারণে পাশে নেই দল এমনটাই অভিযোগ পরিবারের।

অসুস্থ তৃণমূল নেতা ইমরান আলি বলেন , আমার কাছে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলেও কোনো রকম সুবিধা পায় নি । দুয়ারের প্রকল্প শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাতেও বিশেষ কোন অসুবিধা মেলে নি । অথচ আমি উচ্চ মাধ্যমিকে ৭৩ শতাংশ নম্বরে পাশ করেছি । কোন কাজ ছুটে নি । এখন স্ত্রীর সহযোগিতায় কোনরকমে সংসার টিকে আছে। ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল কিন্তু কেউ আমার এই অসহায় তার দিকে ঘুরেও তাকায়নি।

তৃণমূল নেতা ইমরান আলির আরও বক্তব্য, দলের বিধায়ক,  সাংসদদের কাছেও সাহায্য চেয়েছিলাম। কোন লাভ হয় নি। তাই নবান্ন ও জেলা প্রশাসনের কাছে আমার এই অসহায় তার কথা জানিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যু ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই বলে আবেদন জানাব।

আড়াইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান চন্দনা মন্ডল জানিয়েছেন, ইমরান আলি আমাদের দলের বুথ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তার প্রতিবন্ধী ভাতা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তার সংসারের সমস্যার কথা কিছুই জানা ছিল না। পঞ্চায়েতের থেকে যতটা সম্ভব সব রকম ভাবে সহযোগিতা করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.