বকেয়া মজুরি চাইতে গিয়ে পা চাটতে হলো দলিত কিশোরকে

0 42

- Advertisement -

ওয়েব নিউজ, ২০এপ্রিল:- তার মা কাজ করেন অন‍্যের জমিতে। মায়ের প্রাপ্য পারিশ্রমিক বাকি ছিলো সেই বকেয়া মজুরির টাকা চাইতে গিয়েছিলো সে। একজন দলিত হয়ে বর্ণহিন্দুর বাড়িতে যাবে টাকা চাইতে! এমন সাহসের কথা ভাবা যায় তাও কিনা উত্তরপ্রদেশে। তাই দলিত সম্প্রদায়ের ওই কিশোরের ওপর অকথ‍্য নির্যাতন করলো বর্ণহিন্দু কিছু যুবক।

- Advertisement -

ঘটনাটি ঘটেছে ১০এপ্রিল, অভিযোগ মারধরের পাশাপাশি জুতোচাটানো হয়েছে সেই কিশোরকে দিয়ে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায়, টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। অভিযুক্ত ৮ জনকে গ্ৰেপ্তার করে পুলিশ। তপশিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন নিবর্তক আইন এবং ভারতীয় দন্ডবিধির একাধিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে, শুরু হয়েছে তদন্ত । সোশ‍্যাল মিডিয়ায় দলিত নির্যাতনের ভিডিও ছড়াতেই ব‍্যাপক শোরগোল শুরু হয়। প্রতিটি সংবাদমাধ্যম ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই খবর করতে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে নির্যাতিত কিশোর মঙ্গলবার জানিয়েছে, ‘১০ এপ্রিল একটা ছেলে এসে আমাকে বলে তার সঙ্গে যেতে হবে। তারপর সে আমাকে নিয়ে একটা নির্জন জায়গায় যায়। সেখানে আরও ৭জন ছিলো। আমি তাদের কাউকে চিনি না। আমি যেতেই আমাকে খুব মারতে শুরু করে তারা। তারা কেন আমাকে মারধোর করছিলো তাও আমি জানিনা। মার খেয়ে আমি অজ্ঞানমতো হয়ে যাই। আমাকে ফেলে রেখে চলে যায় ওরা। পরে কিছু স্থানীয় মানুষ এসে আমাকে ওই অবস্থায় দেখে উদ্ধার করে বাড়ি পৌছে দেয়।

স্থানীয় থানার এসএইচও হারিকে সিং বলেন ‘আমার সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। এদের মধ‍্যে কয়েকজন নাবালক। প্রত‍্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে ওই দলিত কিশোর দশম শ্রেণির ছাত্র। আড়াই মিনিটের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে দাড়িয়ে। মাটিতে কান ধরে ভয়ে-ভয়ে কাঁপছে নির্যাতিত বালক। তাদের মধ‍্যে একজন দলিত যুবকটিকে বলছে বানান করতো ‘ঠাকুর’। উত্তরপ্রদেশে ঠাকুরদের বর্ণহিন্দু হিসাবে গণ‍্য করা হয়। মারধরের সময় অভিযুক্তদের বলতে শোনা যায়, ‘আর এই কাজ করবি?’

এরপর বাইকে বসা এক যুবকের পা চাটতে বাধ‍্য করা হয় সেই কিশোরকে। পুলিশ জানিয়েছে, বালকটি স্থানীয় এক পল্লিতে তার বিধবা মায়ের সাথে থাকে। তার মা অভিযুক্তদের জমিতে খেতমজুরের কাজ করেন। তাকে দীর্ঘদিন ধরে মজুরি দেওয়া হয়নি। ছেলে মায়ের মজুরি চাইতে গেলে দলিত জন‍্য তার ওপর চলে অকথ‍্য নির্যাতন। জাতিবিদ্বেষের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে উত্তরপ্রদেশে।

জাতীয় অপরাধ নথি সংগ্ৰাহক সংস্থা বলছে, ভারতে প্রতি ১০ মিনিটে গড়ে একটি করে দলিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কেবল ২০২০ সালেই দলিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৫০,২৯১টি‌ যা দেশের থানাগুলিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে এই সংখ্যা ১৯ এর তুলনায় ৯.৪ শতাংশ বেশী।দলিত নির্যাতনের ইতিহাসে আরও একটি কলঙ্কের অধ‍্যায় হয়ে যুক্ত হলো এই ঘটনা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.