মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে কোটিপতি, আবার নিমিষেই ভিখারি! রইল বিখ্যাত ব্যবসায়ীর করুণ কাহিনী

ভগবান যখন যাকে দেন কথাটা আমার সবাইই শুনেছি। তার সাথে আমরা এটাও জানি যে, ভাগ্যের ফলে আসে অনেক কিছু আবার ভাগ্য সরে গেলে সরে যায় পায়ের তলার মাটি।

0 62

- Advertisement -

ওয়েব ডেস্ক, ৮ মে :- অনেকেই সাফল্য এবং ভেঙে পড়ার অনেক গল্প পড়েছেন, কিন্তু আজ এমন একজনের জীবনের গল্প বলতে চলেছি যিনি মাত্র ৮ ডলার খরচ করে হয়েছেন কোটিপতি।

- Advertisement -

এই গল্পটি বি আর শেট্টির । শেট্টি কে সবচেয়ে ধনী কন্নড় হিসাবে ধরা হয়। তিনি দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় ওষুধ কোম্পানি NMC-এর মালিক। বি আর শেঠি কর্ণাটকের উদুপি জেলার কাপু শহরে ১ আগস্ট ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। একজন সাধারণ চিকিৎসা প্রতিনিধি হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু। এরপর কঠোর পরিশ্রম করে বর্তমানে কোটি কোটি সম্পদের মালিক তিনি।

বি আর শেট্টি তার ওষুধ ব্যবসাকে উচ্চতার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তিনি তার ব্যবসাকে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি আর্থিক পরিষেবা, আতিথেয়তা, খাদ্য ও পানীয়, ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন এবং রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রেও প্রসারিত করেছেন। ১৯৮০ সালে ইউএই এক্সচেঞ্জে নাম লিস্টেড করেন। তবে তিনি যেমন সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন , তেমনি ধ্বংসের প্রান্তদ্বারেও পৌঁছেছেন। ভেঙ্গে যায় শেট্টির বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।

শেট্টির জন্ম এক অতিসাধারণ পরিবারে। অভাব ছিলনা তাদের পরিবারে কিন্তু অতিরিক্ত খরচ করার মতো সম্পদশালীও ছিলেন না তারা। শেট্টির নেতা হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল এবং রাজনীতিতেও পা দিয়ে দুবার পৌর নির্বাচনে জয়ী হন। শেট্টি অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং নরেন্দ্র মোদীর সাথেও দেখা করেন। কিন্তু বোনের বিয়ে ঠিক হলে তার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। পরিবারকে বিয়ের জন্য ঋণ নিতে হয়েছিল এবং সেই ঋণ শোধ করতে শেট্টিকে ছাড়তে হয় রাজনীতি।

বোনের বিয়ের জন্য শেট্টি যে ঋণ নিয়েছিলেন তা শোধ করার জন্য শেট্টি দুবাইতে চলে আসেন । এখানে একটি কোম্পানিতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি পেয়ে যান তিনি। যখন তিনি দুবাই পৌঁছোনা তার পকেটে ছিল মাত্র ৮ ডলার।

জীবনের প্রথম দিনগুলিতে, শেট্টির ছিল একটি মাত্র শার্ট। যা তিনি প্রতিদিন ধুয়ে পরের দিন পরতেন। এরপর বি আর শেট্টি চন্দ্রা কুমারী শেট্টিকে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী ছিলেন ডাক্তার এবং এরপর তারা দুজন মিলে খোলেন একটি ক্লিনিক।

এরপর তিনি নামেন স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজে। এবং এই ব্যবসায় কাজ করার পর, শেট্টি মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার দিকে পা বাড়ান। শেট্টি সংযুক্ত আরব আমিরাত, এশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকা সহ ৩০টি দেশে UAE এক্সচেঞ্জের ৭০০ এরও বেশি শাখা খোলেন। সময়ের সাথে সাথে, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক পরিষেবা ছাড়াও, শেট্টি আতিথেয়তা, খাদ্য ও পানীয়, ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন এবং রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায় নামেন। সে সময় তিনি ছিলেন সাফল্যের শীর্ষে। ২০১৯ সালে, ফোর্বস দ্বারা বিশ্বের ভারতীয় ধনকুবেরদের মধ্যে ৪২ তম স্থানে ছিলেন তিনি। তার মোট ৪.২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ রয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

দুবাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করার পর ভারতেও তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চেয়েছিলেন শেট্টি। এই চিন্তা করে এখানকার কয়েকটি হাসপাতালে পুঁজি বিনিয়োগ করেন তিনি। ২০১৮ সালে ভারতের প্রথম সেভেন স্টার হাসপাতাল সেভেন হিলস হাসপাতালও কিনে নেন তিনি

২০০৯ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি প্রতিবেদনের কারণে পুরোপুরি নড়ে গিয়েছিল তার ব্যবসা। আসলে মডি ওয়াটার্স নামে একটি ব্রিটিশ বিনিয়োগকারি সংস্থা একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিযোগ করে যে শেয়ার নিয়ে এনএমসিতে দুর্নীতি হচ্ছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জালিয়াতিরও অভিযোগ আনা হয় সেই প্রতিবেদনে। এরপরই শুরু হয় তদন্ত।

এই অভিযোগের পর শেট্টির সমস্ত পদ কেড়ে নেওয়া হয়। এনএমসি হেলথকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। এবং বলা হয় যে, শেট্টির কোম্পানির মোট পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ রয়েছে। একসময় বিরাট উচ্চতায় ওঠার পর আজ আবারো মেঝেতে এসে পড়েছেন তিনি। বাস্তব জীবনে এরকম সফলতা ও ধ্বংসের গল্প খুব কমই আছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.