বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার জাতীয় ভাষা নিয়ে বিতর্কে সংস্কৃতের প্রতি সাওয়াল কঙ্কনা রানাউতের :

0 39

- Advertisement -

ওয়েব ডেস্ক, ৩০ এপ্রিল :- দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয়তা এবার গড়িয়েছে ভাষা বিতর্কে। জাতীয় ভাষা হিন্দি নিয়ে টুইটারে তুমুল বিতর্ক শুরু হয় বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন এবং দক্ষিণী অভিনেতা কিচ্ছা সুদীপের মধ্যে।  এবার এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন বলিউডের কন্ট্রোভার্সি ক্যুইন কঙ্গনা রানাউত।

 

 

- Advertisement -

এ কথা ঠিক বিগত কয়েক মাস ধরেই দক্ষিণী প্যান ইন্ডিয়া সিনেমাগুলির জনপ্রিয়তা বেড়েছে, মানুষ এই ছবিগুলির প্রতি নিজের ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন। পাশাপাশি সূর্য্যবংশী, গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়ারির মত ছবিগুলিও চূড়ান্তভাবে সফলতা পেয়েছে। আবার জার্সির মত বলিউডের বিগ বাজেটের ছবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেও দেখা গেছে দর্শককে। ফলত অনেকের মনেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে তবে দক্ষিণী সিনেমার ভারেই পিছিয়ে পড়ছে বলিউড সিনেমা? বিতর্ক চূড়ান্ত আকার নেয় দক্ষিণী অভিনেতা কিচ্ছা সুদীপের একটি মন্তব্যকে ঘিরে।

 

 

 

ব্যাঙ্গালুরুতে কেজিএফ ২- এর দেশব্যাপী ব্যাপক সফলতা ঘিরে যে সেলিব্রেশন চলছিল সেখানে কিচ্ছা সুদীপ মন্তব্য করে বসেন যে ‘হিন্দি আর এখন জাতীয় ভাষা নয়।’ এখান থেকে শুরু হয় বিতর্ক, এরপর কিচ্ছা সুদীপের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েন নি বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন ও। তিনি কিচ্ছা সুদীপের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘যদি হিন্দি আমাদের জাতীয় ভাষা নাই হবে তাহলে কেন বিভিন্ন ভাষায় তৈরি সিনেমাগুলি হিন্দিতে ডাব করা হয়? তবে শুধু অজয় দেবগনই নন এবার এই ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন কঙ্গনা রানাউত।

 

 

 

সম্প্রতি তাঁর আসন্ন ছবি ‘ধাকাদ’ -এর জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কঙ্গনা এবং সেখানেই হিন্দি ভাষা বিতর্কে মুখ খুলেছেন তিনি। এই বিষয়ে কঙ্গনা জানান, ‘এই প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর আমার জানা নেই। আমরা অনেক বৈচিত্র্য, একাধিক ভাষা এবং সংস্কৃতির দেশ। প্রত্যেকেরই তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করার জন্মগত অধিকার রয়েছে। আমি একজন পাহাড়ি, এবং আমি এটা নিয়ে গর্ব করি।’

 

 

পাশাপাশি কঙ্গনা মনে করেন যে, সংস্কৃত ভাষা হিন্দির চেয়ে পুরানো তাই সংস্কৃত ভাষাকে জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। কঙ্গনা সাফ জানান, ‘আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন কোন ভাষাটি জাতীয় ভাষা হওয়া উচিত, তবে আমি মনে করি এটি সংস্কৃত হওয়া উচিত। সংস্কৃত কন্নড়, তামিল, গুজরাটি বা হিন্দির চেয়েও প্রাচীন। এই সব ভাষা এসেছে সংস্কৃত থেকে। তাহলে কেন সংস্কৃত জাতীয় ভাষা হল না? আর হিন্দি? আমার কাছে সত্যিই এর কোনো উত্তর নেই। এগুলি সেই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত যখন আমাদের সংবিধান লেখা হয়েছিল।’

 

 

 

 

এরপর নিজের মতামত নিয়ে যাতে কোনও বিতর্ক তৈরি না হয় তাই নিজের মন্তব্যকে খোলসা করে কঙ্গনা জানান, ‘আমি বলেছি যে সংস্কৃতের পরিবর্তে কেন হিন্দিকে জাতীয় ভাষা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে তার উত্তর আমার কাছে নেই। কিন্তু এখন যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে, তা না মানলে আপনি সংবিধানকে অস্বীকার করছেন।’ এরপর অজয় দেবগন এবং কিচ্ছা সুদীপের মধ্যে হওয়া বিতর্কের কথা উল্লেখ করে কঙ্গনা জানান যে ‘উভয় অভিনেতাই তাদের নিজের দিক থেকে ঠিক। হিন্দি আমাদের জাতীয় ভাষা, তাই অজয় ​​স্যার যা বলেছেন তা ঠিক। তবে আমি সুদীপের অনুভূতি বুঝতে পারি এবং সেও ভুল নয়।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.