গদি বাঁচাতে পারলেন না ইমরান, আস্থা ভোটে হার পাক প্রধানমন্ত্রীর

রবিবার ভোর রাতে ১৭৪-০ ভোটের ব্যবধানে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। যার ফলে ক্ষমতাচ্যুত হলেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

0 94

- Advertisement -

ওয়েব ডেস্ক, ১০ এপ্রিল :- পাক জাতীয় সংসদে দিনভর চলল হাইভোল্টেজ নাটক। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবারের মধ্যে আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের সময় রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত জাতীয় সংসদের আস্থা ভোটের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলর স্পিকার আসাদ কায়সার সংসদের অধিবেশন চারবার মুলতবি করেছিলেন। তবে চরম নাটকীয় ভাবে এরপর স্পিকার আসাদ কাইসার এবং ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি পদত্যাগ করেন। এরপর পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির চেয়ার প্যানেলের সদস্য আয়াজ সাদিক স্পিকারের দায়িত্ব সামলান। মধ্যরাতের আগেই তিনি আস্থা ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরই মাঝে মধ্যরাতে দুই মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতুবি করে রবিবার ফের শুরু হয় নয়া অধিবেশন। এরপর রবিবার ভোর রাতে ১৭৪-০ ভোটের ব্যবধানে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রসঙ্গত , ৩৭২ আসন বিশিষ্ট পাক অ্যাসেম্বলিতে ম্যাজিক ফিগার ১৭২। এরপরই ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত করা হয়। এর আগে ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফের (PTI) সদস্যরা অ্যাসেম্বলি ত্যাগ করেন।

- Advertisement -

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল মাঝরাতেই আদালতের দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আস্থা ভোট না হলে ইমরান খান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে গভীর রাতে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করে আসেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় পাক সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার। এরপর পাক স্থানীয় সময়ে রাত সাড়ে ১১টায় অ্যাসেম্বলি ভবনে পৌঁছান স্পিকার আসাদ কাইসার। ততক্ষণে পাক অ্যাসেম্বলির বাইরে প্রিজন ভ্যান মোতায়েন করা হয়। এই আবহে স্পিকার পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের মুহূর্তে স্পিকার বলেন, ‘৩০ বছর ধরে ইমরান খানের সঙ্গে আছি। ছাত্র অবস্থায় পিটিআই-তে যোগ দিয়েছি। কীভাবে আস্থা ভোটের নির্দেশ দেই!’ পাশাপাশি তিনি ইমরান খানের ‘ষড়যন্ত্রে’র তত্ত্বের উপর জোর দিয়ে একটি সাদা কাগজ দেখিয়ে দাবি করেন, এতেই প্রমাণ রয়েছে যে ‘বিদেশি শক্তি’ পাক সরকারের পতনের নেপথ্যে রয়েছে।

আস্থা ভোট শুরু হতেই প্রথম ভোট দেন পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি। এরপর আরও ১৭৩ জন জাতীয় সংসদের সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এরই মাঝে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসভবন ছেড়ে চলে যান। অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির ফল প্রকাশ হতেই শেহবাজ আহমেদ বলেন, ‘পাকিস্তানে নতুন ভোর হতে চলেছে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.