প্রচলিত ট্যাবু ভেঙ্গে ইচ্ছাশক্তি ও অদম্য জেদের বশে ড্রাইভারের সিটে কল্পনা

0 39

- Advertisement -

ওয়েব ডেস্ক, ৫ মে   :  ধরুন যদি এমন হয়, আপনি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন, অপেক্ষা করছেন বাসের । বাস এল, আপনি উঠেও বসলেন, কিন্তু চালকের আসনে এক মহিলা!…… চমকে যাবেন!……

 

- Advertisement -

হ্যাঁ!, সমস্ত স্টিরিওটাইপকে ভেঙে দিয়ে নোয়াপাড়া থেকে ধর্মতলা রুটে 34C বাস নিয়ে দাপিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ছিপছিপে চেহারার তরুণী কল্পনা মন্ডল ।

 

 

বিষয়টা শুনতে যতটা সহজ, কল্পনার বাস চালানোর গল্পটাতে রয়েছে ততটাই যন্ত্রণা । আছে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার অনুভূতি , আছে হারিয়ে ফেলার কষ্ট আর সব থেকে বেশি যেটা আছে তা হল হার না মেনে নেওয়া আর অদম্য জেদ।

 

 

বেশ ভালোই কাটছিল সবকিছুই । এই বাসের চালক আগে তার বাবা-ই ছিলেন । একটা অ্যাক্সিডেন্টে গুরুতর চোট লাগে পা-এ , তারপর আর কল্পনার বাবার বাস চালানো সম্ভব হয়নি । কিন্তু তাকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসার খরচ বাবদ অনেক টাকা লাগবে, তাই কল্পনাই এগিয়ে এসেছিল সংসারার হাল ধরতে। বাবাকে দেখে বাস চালানোর শখ এমনিতেই ছিল তার। সেই শখকেই সাথে করে পথে নামা তার । হাতে স্টিয়ারিং , কাঁধে দায়িত্ব , আর জেদ – বাবাকে সুস্থ করে তুলবোই। রোজ সকাল ছয়টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে পড়তে হয় তাকে। মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করে তারপরই বেরিয়ে পড়ে বাস নিয়ে । এরপর সারাদিন ছোটাছুটি করে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায় । ক্লান্ত লাগে তবে ক্লান্তিকে উপেক্ষা করতে শিখে গেছে সে। শুরুর দিকে বিষয়টি সহজ ছিল না। অনেকেই অনেক প্রশ্ন তুলেছেন । অনেকেই বলেছিলেন মহিলা হয়ে বাস চালাবে! তবে তাদের কোনো নেতিবাচক মন্তব্য নড়াতে পারেনি কল্পনাকে। বরং আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তার জেদ। তার কঠিন সময়ে পরিবার ছাড়া আর কেউই ছিল না তার পাশে। আর যেটা ছিল তা হল কল্পনার মনের জোর ।

 

 

কিন্তু বাস চালাতে শিখলেন কিভাবে কল্পনা। সেইসব কৃতিত্বই কল্পনা দেন তার বাবাকে , কারণ ছোট থেকে বাবা-ই হাতে ধরে তাকে বাস চালানো শিখিয়েছেন। ছোটবেলায় কল্পনার বাবা তাকে স্টিয়ারিং ধরতে বলতেন, কিন্তু কোনোদিন একা ছেড়ে দেননি। এখন সেই বাবাই কল্পনার মাকে বলেন , মেয়ে হয়ে ছেলের মত কাজ করছে কল্পনা । যে বাবা একদিন গুরুর মত শিক্ষা দিয়েছিলেন কল্পনাকে , পরিবারের খারাপ সময়ে সেই শিক্ষাই কাজে লাগাচ্ছে কল্পনা।

 

যারা প্রথমবার কল্পনার বাসে ওঠেন, ড্রাইভার এর আসনের দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠেন তাঁরা। আবার কল্পনার গাড়ি চালানো দেখে আশ্বস্তও হন।
এবার ভাবুন! এখনো বলবেন মেয়েদের দ্বারা সব কাজ হয় না!
বিশ্বাস করুন, মেয়েরাও পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.