সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা আর টিউশন করাতে পারবেন না, জারি কড়া নির্দেশিকা

সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা আর গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না, এই মর্মে রাজ্যের শিক্ষা দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তাঁরা কোনও কোচিং সেন্টারের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না। বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠছিল। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই রাজ্যের শিক্ষা দফতরের তরফে নেওয়া হল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

0 78

- Advertisement -

ওয়েব ডেস্ক, ০৩ জুলাই:- সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা আর টিউশন পড়াতে পারবেন না। একটি নির্দেশিকা জারি করে এমনটাই জানিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুধু গৃহশিক্ষকতাই নয়, কোনও ধরনের কোচিং সেন্টারের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা। অভিযোগ উঠেছিল, বিভিন্ন জেলায় নিয়মের তোয়াক্কা না করে গৃহশিক্ষকতা করছেন সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা। এবার এই নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য।

- Advertisement -

ঠিক কী বলা হয়েছে এই নির্দেশিকায়?
শিক্ষা দফতর ২৭ জুন এই নির্দেশিকা দিয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী-
> সরকারি স্কুলে কর্মরত শিক্ষিক-শিক্ষিকারা গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না।

> কোনও ধরনের কোচিং সেন্টারের সঙ্গেও তাঁরা যুক্ত থাকতে পারবেন না।
> বিনামূল্যেও টিউশন দেওয়া যাবে না।

ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ রাজ্যের স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘রাইট অফ চিলড্রেন টু ফ্রি অ্যান্ড কমপালসারি এডুকেশন অ্যাক্ট, ২০০৯’ সালের ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি অনুয়ায়ী, সরকারি সমস্ত স্কুল, মডেল স্কুল, এনআইজিএসগলির শিক্ষকরা আর প্রাইভেট টিউশন পড়াতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন জেলাতে স্কুল শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন পড়াচ্ছিলেন মোটা টাকার বিনিময়ে, অভিযোগ উঠেছিল এমনটাই। সেদিক থেকে এই নির্দেশিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই পাঁচটি জেলার স্কুল পরিদর্শককে অ্যাকশন টোকেন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে এই জেলাগুলির ৬১ জন শিক্ষকের প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল। তাঁদের গৃহশিক্ষকতা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই মর্মে তাঁদের মুচলেকাও জমা দিতে বলা হয়। যদিও গৃহশিক্ষকদের একাংশের দাবি, “জেলায় শিক্ষকদের অভাব রয়েছে। তাই অনেকেই রীতিমতো টিউশনের জন্য সাধাসাধি করে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের নিষেধ করা সম্ভব হয় না। নামমাত্র অর্থ নিয়ে গৃহশিক্ষকতা করেন অনেকেই।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল বিস্তর। SSC এবং TET নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। তারই মধ্যে গৃহশিক্ষকতা বন্ধ করার জন্য রাজ্যের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.