চিলাখানার শতাব্দীপ্রাচীন অষ্টমী মেলায় পুণ্যার্থীদের ঢল

0 58

- Advertisement -

কোচবিহার, ৯ এপ্রিল :- চিলাখানা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত ও অন্দরান ফুলবাড়ী ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর ধরে চলে আসছে অষ্টমী স্নান ও মেলা। নদীর পাশেই রয়েছে বলরাম মন্দির, নদীতে স্নান সেরে মন্দিরে পুজো দিয়ে ভক্তরা ভিড় জমান মেলায়।

- Advertisement -

মেঘলা সকালে গদাধর নদীতে মহাষ্টমীর স্নানে উপচে পড়ল ভিড়। শনিবার ভোর থেকে ঠান্ডা হাওয়া উপেক্ষা করে পুণ্যার্থীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন গদাধর মেলা প্রাঙ্গণে। ভোর থেকেই জিলিপি, মিষ্টি, বেলুন, দই, চিঁড়ে সহ নানা পসরা নিয়ে হাজির শতাধিক দোকানদার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০০ বছর থেকে চলে আসা এই মেলায় কোচবিহার জেলার পাশাপাশি নিম্ন অসম থেকে পুণ্যার্থীরা এখানে ভিড় জমান। তবে গত দু বছর করোনার কারণে হয়নি মেলা। তবে এ বছর ভক্ত পুণ্যার্থীর আগমনে জমে উঠেছে মেলা। মূলত গদাধর নদীতে স্নান করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করেন সাধারণ মানুষ। নদীর দু’ধারে বহু পুরোহিত বসে থাকেন ভোর থেকে।

পুজো কমিটির তরফে জানা হয় , এখানে অষ্টমীর দিন স্থানীয় বলরাম মন্দিরে পুজো হয়। আর তা ঘিরে প্রতিবছর মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তখন থেকেই গদাধর মেলা বিখ্যাত। মূলত বাসন্তী পুজোর অষ্টমীর দিনে পুণ্যার্থীরা এখানে স্নান করেন। সেই উপলক্ষে বসে মেলা।তিন দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মেলা।

তল্লিগুড়ি থেকে আসা নারায়ণ চন্দ্র সরকার জানান, বহু বছর ধরে গদাধর মেলায় আসছি। নদীতে স্নানের পর দই চিঁড়ে ও গুড় খাওয়া এই মেলার নিয়ম। মেলায় স্থানীয়ভাবে তৈরি বাঁশের বাঁশি, মাটির হাঁড়ি, থালা, দেব-দেবীর মূর্তি, পুতুল, ইত্যাদির পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। এ ছাড়া রয়েছে মুড়ি-মুড়কি, খই, দই, চিড়া ইত্যাদি।

অষ্টমীর দিন  দূরদূরান্ত এলাকা থেকে পুর্নার্থীরা দরিয়াবলাই গদাধর নদীতে পূর্ণ্য স্নানের জন্য ভিড় জমায়।গদাধর নদীর উত্তর দিকে রয়েছে ঘোগারকুটি দ্বিতীয় খণ্ডের বাসন্তী পুজো। আর নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো বলরামের মন্দির। সেখানে রয়েছে বলরামের বিশালাকৃতি শায়িত মূর্তি। এছাড়াও বাসন্তী পুজো, শিবের পুজো ইত্যাদি পুজো হয়ে থাকে। সেখানেও বসেছে মেলা। পুণ্যার্থীরা গদাধর নদীর দুপারেই দর্শন করতে যান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.